উখিয়া নিউজ ডটকম
প্রকাশিত: ০৩/১১/২০২৫ ৯:৪০ এএম
“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম”
বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত  উপজেলা—উখিয়া ও টেকনাফ। এই জনপদ আজ মাদক, রোহিঙ্গা সঙ্কট, কর্মসংস্থানের অভাব, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়,  এবং মাঠ প্রশাসনের উদাসীনতার কবলে। তাই বহুল আকাঙ্ক্ষিত আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা তরুণ ভোটারসহ সাধারণ জনতা স্বশিক্ষিত, উন্নয়নমুখী, সৎ ও কর্মঠ এমন একজন প্রার্থী/নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছি যিনি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন।এই  মাদক পরিবার, সমাজ এবং তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংস করছে। উখিয়া-টেকনাফে বর্তমানে প্রায় ১৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছে। এতে স্থানীয়দের জীবিকা, নিরাপত্তা ও পরিবেশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জোর প্রচেষ্টা চলমান রাখবেন। সাম্প্রতিক মায়ানমারের আরাকান আর্মি বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের দিকে চোখ রাঙ্গাচ্ছে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আটক/বন্দী হওয়া টেকনাফের ১১৭জন জেলেকে মুক্ত করে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে তড়িৎ গতিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। তাছাড়া আসন্ন প্রার্থীকে অবশ্যই শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। ক্যাম্পে চলমান এনজিও প্রজেক্টগুলোতে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করবেন। প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন, উখিয়ার ইনানী, টেকনাফের স্থল বন্দর, শাহপরীর দ্বীপের করিডোর ও নাফ নদীকে ব্যবহারের জন্য চালু করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। সেই সাথে টেকনাফ-সাবরাং এ পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন করে স্থানীয়দের সেখানে পর্যটনখাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ দিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকাকে গতিশীল রাখার আপ্রাণ চেষ্টা3 করবেন। পাশাপাশি পাহাড় ও বনাঞ্চল সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার বিষয়ে সজাগ থাকবেন। পেশি শক্তি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি, গুম-অপহরণ, প্রত্যক্ষ হুমকি প্রদান, ব্যালট পেপার চিন্তায়, কথায় কথায় রাজাকার ট্যাগ দেওয়া, মহান মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে অতি-চেতনার রাজনীতি, ভারতের আধিপত্যবাদ/আগ্রাসনকে মেনে নিয়ে ক্ষমতার স্বাদ নেওয়ার চিন্তা চিরকালের জন্য ভুলে গিয়ে সর্বশ্রেণির কল্যাণে নিয়োজিত হবে এমন এক নেতৃত্বকেই আমরা আগামীর রাষ্ট্রক্ষমতার আসনে দেখতে চাই।
 সর্বোপরি উখিয়া ও টেকনাফের তরুণ এবং সাধারণ জনগণ আর বিগত তিন যুগের মত কেবল প্রতিশ্রুতির রাজনীতি নয় বরংচ সঠিক বাস্তবায়ন দেখতে চায়। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে প্রার্থী একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য  ইলেকশনের মাধ্যমে একটি মাদকমুক্ত, অপহরণমুক্ত সমাজ, নিরাপদ সীমান্ত, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিবেন তিনিই জয়ী হবেন বলে আশা রাখছি। তারুণ্যের এই প্রত্যাশাগুলোর সঠিক প্রতিফলন ঘটলে উখিয়া-টেকনাফ হবে শান্তি, উন্নয়ন ও আশার জনপদ।
রহমত উল্লাহ
শিক্ষার্থী, (২১-২২)সেশন
পলিটিক্যাল সায়েন্স ডিপার্টমেন্ট
কক্সবাজার সরকারি কলেজ।

পাঠকের মতামত

 

গণভোটে “হ্যাঁ” জয়যুক্ত হলে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে:মেয়াদ হবে চার বছর

​২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী বিপ্লব বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় সময়। একটি বৈষম্যহীন এবং ন্যায়বিচারভিত্তিক ...

ভুল হোক ফুল

আমাদের এই ছোট্ট জীবনটার পুরোটাই হচ্ছে শিক্ষা ক্ষেত্র।যত সময় যাচ্ছে, ততই যেন আমরা নতুন বিষয় ...